বায়ুমণ্ডল কী?
ভূপৃষ্ঠকে ঘিরে থাকা বিশাল গ্যাসীয় আবরণকে বায়ুমণ্ডল (Atmosphere) বলে। পৃথিবীর পরিবেশের প্রধান উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল (Hydrosphere), অশ্মমণ্ডল (Lithosphere) এবং জীবমণ্ডল (Biosphere)।
উচ্চতা এবং উষ্ণতার পরিবর্তনের ভিত্তিতে বায়ুমণ্ডলকে বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়। এই স্তরগুলির প্রত্যেকটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব রয়েছে।
বায়ুমণ্ডলের প্রধান স্তরগুলি
১. ট্রপোস্ফিয়ার — ক্ষুব্ধমণ্ডল
- ভূপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ১২ km উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বায়ুমণ্ডলের মোট বায়ুর ভরের প্রায় ৭৫% এই স্তরে থাকে।
- ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প ও মেঘের উপস্থিতির কারণে এখানে ঝড়, বৃষ্টি ও কুয়াশা দেখা যায়।
- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে চাপ ও তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- তাই একে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয়।
২. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার — শান্তমণ্ডল
- ট্রপোস্ফিয়ারের উপর থেকে প্রায় ৫০ km উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এখানে জলীয় বাষ্প ও মেঘের পরিমাণ খুব কম হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টি হয় না।
- তাই একে শান্তমণ্ডল বলা হয়।
- এই স্তরের নিম্নভাগে প্রায় ১৫–৩৫ km উচ্চতার মধ্যে ওজোন স্তর রয়েছে।
- ওজোন স্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই স্তরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
৩. মেসোস্ফিয়ার
- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উপর থেকে প্রায় ৮০–৮৫ km উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি বায়ুমণ্ডলের অন্যতম শীতলতম স্তর।
- এর ঊর্ধ্বসীমাকে মেসোপজ বলা হয়।
- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
৪. থার্মোস্ফিয়ার / আয়নমণ্ডল
- মেসোস্ফিয়ারের উপর থেকে প্রায় ৫০০ km পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সূর্যের অতিবেগুনি ও X-রশ্মির প্রভাবে এখানে গ্যাসীয় অণু ও পরমাণু আয়নিত হয়।
- তাই একে আয়নমণ্ডল (Ionosphere) বলা হয়।
- এখান থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসে।
- এখানে মেরুজ্যোতি (Aurora) দেখা যায়।
- উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৫. এক্সোস্ফিয়ার
- থার্মোস্ফিয়ারের উপরের স্তর।
- এই স্তরে বায়ু অত্যন্ত হালকা বা বিরল।
- কৃত্রিম উপগ্রহ স্থাপনের জন্য এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
- এটি এক্সোস্ফিয়ারের উপরের অঞ্চল।
- এখানে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
- এখানে ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় দেখা যায়।
গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা
ল্যাপস রেট: উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাসের হারকে ল্যাপস রেট বলে।
বিপরীত উষ্ণতা: উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রার পরিবর্তনের স্বাভাবিক ধারা বিপরীত হলে তাকে বিপরীত উষ্ণতা বলে।
আর্দ্রতা ফাঁদ: ট্রপোপজ অঞ্চলের অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার কারণে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে প্রবেশ করতে না পারার প্রক্রিয়াকে আর্দ্রতা ফাঁদ বলে।
মনে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- সর্বনিম্ন বায়ুমণ্ডলীয় স্তর → ট্রপোস্ফিয়ার
- ক্ষুব্ধমণ্ডল → ট্রপোস্ফিয়ার
- শান্তমণ্ডল → স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
- ওজোন স্তর → স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
- শীতলতম স্তর → মেসোস্ফিয়ার
- বেতার তরঙ্গের প্রতিফলন → আয়নমণ্ডল
- মেরুজ্যোতি → আয়নমণ্ডল
- কৃত্রিম উপগ্রহ → এক্সোস্ফিয়ার
- ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় → ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
- ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্ধমণ্ডল বলা হয় কেন?
- স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলা হয় কেন?
- বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন স্তর অবস্থিত?
- মেসোপজ কী?
- আয়নমণ্ডলকে কেন এই নামে ডাকা হয়?
- ল্যাপস রেট কী?
- বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে তাপমাত্রা হ্রাস পায়?
- কোন স্তর থেকে বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয়?
Next: Lesson 2 — ওজোন স্তরের সৃষ্টি ও ধ্বংসের রসায়ন